11184>|| ছিঁচকাঁদুনি ||

    11184>||  ছিঁচকাঁদুনি ||

        <---আদ্যনাথ --->

ওপাড়ার ছিঁচকাঁদুনি,

সেনাকি আবার বিশাল রাঁধুনি।

তিন বাড়ির ভোজ একলাই রাঁধেন,

দুইবেলা তানপুরোতে গলাও সাধেন।


সে নাকি হাত দিয়ে ভাত খায়,

উঠনে বসেই রোজ গান গায়।

লোকে বলে ছিঁচকাঁদুনি,

এমন তরো গায়ক আর দেখিনি।


গানের গুঁতোয় পালায় গরু ছাগল,

সবাই বলে ওরে থাম থাম গান পাগল।

থামতে কি আর চায়রে যখন তখন,

ছিঁচকাঁদুনি করছে বুঝি গলার যতন।


ওরে এমন গান তুই গাইছিস কেন,

বনের পশু পাখি সব পালিয়ে গেল।

বাকি আছে দুই-চারখানা কালোমহিষ,

সে গুলি পালালে বুঝি মিলবেনা হদিস।


ওরে ছিঁচকাঁদুনি এবার দেরে ক্ষ্যামা,

পাড়া সুদ্দু পালিয়েছে খুলে দিয়ে জামা।

রাঁধতে হবে রাজার মেয়ের বিয়ের ভোজ,

পেয়াদা এসে করছে ছিঁচকাঁদুনির খোঁজ।


রাজা জানেন ছিঁচকাঁদুনি বিশাল রাঁধুনি,

সাত গ্রামের ভোজ এজাই রাঁধেন,

নিজেই আবার নাচ-গানের জলসা করেন,

রাজার সৈন্যরা অস্ত্র ঝলকে তাল সাধেন।


তাইতো ছিঁচকাঁদুনির ডাক পড়েছে, 

 ঢোল পিটিয়ে হাঁক পড়েছে,

 সাঁত গাঁয়ের মানুষ জড়ো হয়েছে,

ভোজের হাঁড়ি উনুনে চেপেছে।


বিয়ে হবে মধ্য রাত্রে,

বড় আসবে সন্ধ্যা রাত্রে,

পুরুত ব্যস্ত ডালা সাজাতে,

ছিঁচকাঁদুনি নিজে কনে সাঁজাবে।


রাজার মেয়ের বিয়ে বলে কথা,

রাজ্য জুড়ে ব্যস্ত সবাই হেথা হোথা।

একটা ভয়ে সকলেই ভীত,

বুঝি শুরু হয় ছিঁচকাঁদুনির গানের গুঁতো।

   <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

=====================


Comments

Popular posts from this blog

11123>|| বিজয়া সম্মিলনী- 2025 ||

1118>|| ভূত চতুর্দশী/ নরক চতুর্দশী ||

1110>|| পুজোর মজা || ----2025 ||