11123>|| বিজয়া সম্মিলনী- 2025 ||
11123>|| বিজয়া সম্মিলনী- 2025 ||
<----আদ্যনাথ--->
বিজয়া সম্মিলনী এক হৃদ্যতাপূর্ণ আলিঙ্গন অনুষ্ঠান পর্ব,
এটি আমাদের হৃদয়ে এক চিরাচরিত গর্ব।
বিষাদে আনন্দে মাখামাখি এক অনুষ্ঠান পর্ব।
যে পর্ব অনুষ্ঠানে আমরা বোধকরি গর্ব
আজ আমরা এমন এক বিশেষ দিনে জড়ো হয়েছি যে দিনে ভগিনী নিবেদিতা অর্থাৎ মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল
মা সরদার 'খুকি'
এর 159 তম জন্মদিন।
'মা 'সারদা মার্গারেট কে 'খুকি' ,বলেই ডাকতেন।
আজকের দিনে 1867 র 28 অক্টবর
সিস্টার নিবেদিতা জন্ম দিন।
আবার অক্টবর মাসেই মহাপ্রয়ান 13 অক্টবর 1911.
28 অক্টবর জন্ম 1867
এবং 28 জানুয়ারি 1889 ভারতে আসেন
(নিবেদিতার জন্ম 1867 এর 28 অক্টবর
মহাপ্রয়াণ দিবস 13 অক্টবর 1911 )
1898 -এর 28 জানুয়ারি মার্গারেট কলকাতায় আসলে, খিদিরপুর জাহাজঘাটায় স্বামীজি তাঁকে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন।
স্বামী বিবেকানন্দ চেয়েছিলেন
ভারতের জন্য, বিশেষত ভারতের নারীসমাজের জন্য, পুরুষের চেয়ে একজন নারীর অর্থাৎ- একজন প্রকৃত সিংহীর প্রয়োজন। আর সেই কারণেই
স্বামীজী নিজে মারগারেটকে ভারতে আসার জন্য আহবান জানিয়েছিলেন।
মার্গারেটের শিক্ষা, ঐকান্তিকতা, অসীম ভালবাসা, দৃঢ়তার জন্য ভারতের কাজে তাঁকে সর্বোত্তম বিবেচনা করেছিলেন স্বামীজি।
আর ওনার কথা বলতে গেলে আমার মতন ক্ষুদ্র মানুষের পক্ষে ঘন্টার পর ঘন্টা বললেও শেষ হবে না।
তাই আজ আমাদের বিজয়া সম্মেলন নিয়েই কিছু বলি।
আমাদের 12 মাসে 13 পার্বন,
অর্থাৎ হরেক পার্বন আমাদের চিন্তন।
এমন চিন্তার স্রোত চলতে থাকুক আজীবন।
এই শুভচিন্তার প্রার্থনা করি সর্বক্ষণ।
এ কথা সত্যি যে আমরা নানান অনুষ্ঠান
করলেও বিজয়া দশমী আমাদের এক বিশেষ আন্তরিক অনুষ্ঠান বা উৎসব।
এই উৎসব শুরু হয় মা মাসি পিসি, সকল এয়ো-স্ত্রী গণের ‘মা’দুর্গার বরণ ও সিঁদুর খেলা দিয়ে।
ভবিষ্য পুরাণ -অনুসারে সিঁদুর হচ্ছে স্বয়ং ব্রহ্মের প্রতীক। বিবাহিতা নারী সিঁথিতে সিঁদুর দিয়ে পরম ব্রহ্মকে আহ্বান করেন স্বামীর মঙ্গল ও দীর্ঘায়ু কামনায়। পরম ব্রহ্ম শুধু স্বামীকে নয়, দম্পতিকেই সুখ
সমৃদ্ধি উপহার দেন।
‘'শ্রীমদভাগবত'’-এ কাত্যায়নী ব্রত উপলক্ষ্যে গোপিনীদের সিঁদুর খেলার বিবরণ রয়েছে।
এই সিঁদুর খেলার পরেই ‘মা’ দুর্গা প্রতিমার নিরঞ্জন হয় ও শুরু হয় বিজয়া অনুষ্ঠান অথবা বিজয়া পর্ব পালন।
বিজয়া অর্থাৎ বিজয় বা সাফল্য।
যা আমাদের দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর সাথে যুক্ত,
যেখানে দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করে জয়লাভ করেছিলেন।
আবার বিজয়া বলতে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের পর একে অপরের প্রতি শুভেচ্ছা জানানো, আলিঙ্গন এবং মিষ্টিমুখ করাকেও বোঝানো হয়, যা "বিজয়া-সম্মিলনী" নামে পরিচিত।
বিজয়ার অন্য অর্থ:
দুর্গার একটি সখী: কিছু ক্ষেত্রে "জয়া-বিজয়া" দুর্গার দুই সখীর নামকেও বোঝায়।
এ-হেন বিজয়া পর্ব পালনকে সুন্দর করে তুলতেই আমাদের বিজয়া সম্মেলন।
একমাত্ৰ এই বিজয়া অনুষ্ঠানেই আবলবৃদ্ধবনিতা সকলেই হৃদয় পূর্ন আনন্দ উপলব্ধির মধ্যদিয়ে অতিবাহিত করে।
সকলেই যেন এক অনাবিল আনন্দ স্রোতে ভেসে চলে।
অতএব বিজয়া অনুষ্ঠান আমাদের সর্বশ্ৰেষ্ঠ সামাজিক অনুষ্ঠান।
এ যেন হৃদয়ের মিলন উৎসব। শুধু প্রনাম , নমস্কার, আলিঙ্গন করেই শেষ হয়না।
, এর সাথে থাকে নানান আনন্দ , উচ্ছ্বাস এবং প্রাণবন্ত শক্তির একটি অসাধারণ মিশ্রণ, সাথে মিষ্টি মুখ অর্থাৎ নানান মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন এই বিজয়া উৎসবের বিশেষ রীতি।
মনেপরে ছোট বেলায় বিজয়া দশমীর দিনে আমরা পাড়ার প্রত্যেক বাড়িতে যেতাম বিজয়া করতে। কারুর বাড়িতে গিয়ে গুরুজনদের প্রনাম করলেই পাওয়া যেত হাত ভর্তি নাড়কেলের নাড়ু, কুচনিমকি, কেউ দিতো গুজিয়া, বোদে।
খেতে খেতে পেট ভরে গেল প্যাকেটে বা কাগজের ঠোঙায় করে নিয়ে ঘরে এসে জমিয়ে রাখতাম। বেশ কদিন ধরে খেতাম। কেউ কেউ আদর করে ঘুগনি, চানাচুর দিত, এত মিষ্টি খাবার পরে ঘুগনি আর চানাচুর ভীষণ ভালো লাগতো। বার বার চেয়ে চেয়ে খেতাম। খাবার জিনিষ চেয়ে খেলে বাড়ির দিদিমা, জ্যেঠিমা, কাকিমারা ভীষণ খুশি হতেন। সে সময়ে যে যত বেশি খেতে পারতো তার ততই আদর ছিল। সে এক ভীষণ মজার দিন ছিল। আজ আর সেই দিন নাই, সব যেন কেমন ফুরিয়ে গেছে।
সেদিনের দিদিমা পিসিমা মাসীরা আজ আর নেই, ছবি হয়ে দেওয়ালে ঝুলছেন।
কেউ বা অপারগ অসুস্থ হয়ে বয়সের ভারে বিছানায় শুয়ে আছেন। ওনাদের প্রণাম করলে কেউ চিনতে পারেন, কারুর বা নীরবে দুফোঁটা অশ্রু ঝরে।
সেদিনের সেই একান্নবর্তি পরিবারই আজ আর নাই, সেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাড়কেল নাড়ু , বাতাসা, হাত ভোরে কুচ নিমকি সে সকলও আর নেই।
আজ নাড়কেল নাড়ু, মোয়া, কুচনিমকি এসকল দোকান থেকে কিনতে হয়।
ওসকল বানাবার মতন সময় কারুর নেই,
ডিজিটাল যুগে ব্যস্তর কারণে অনেক কিছুই হারিয়ে গেছে।
কিন্তু আজও সেই শুভেচ্ছা আদান প্রদান সামানেই চলছে। ফেসবুক, ইন্টারনেট,
গুগুলের মাধ্যমে।
বিজয়া দশমীর নানান পৌরাণিক কাহিনী আছে,
তবে আমাদের বাংলায় বিজয়া দশমী তিথি একটু অন্যরকম, এইদিন উমা তথা 'মা' দুর্গার বিদায়বেলা।
সেদিন অধিকাংশ পুজোই হতো পারিবারিক। আজ সবটাই বারোয়ারী জাকমজমক পূর্ন ধুমধারাক্কা। সকলেই থিম নিয়ে ব্যস্ত। থিম টাই আজকের পুজোর ভাবনা ও ভক্তি। তাতে যে ক্লাবের যেমন আর্থিক শক্তি।
আজপুজোতে ইঞ্জিনিয়ার থেকে বিজ্ঞানী সকল শ্রেণীর মানুষের যোগদান থাকে।
যে যার মতন থিম নিয়ে ভাবনা চিন্তা করেন বৎসর ভর। আর তাঁদের সেই
চিন্তা, কায়িক ও মানসিক শক্তির প্রয়োগেই গড়ে ওঠে এক একটি থিমের
পূজা পেন্ডেল। আর এদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রতিদিনের খেটে খাওয়া মানুষেরা দু-পয়সা পায়।
আর এভাবেই আমাদের দুর্গা পূজা আজ বিশ্বরের দরবারে স্থান অধিকার করে নিয়েছে ইউনেস্কোর সহায়তায়।
আর আমরাও প্রতিবৎসর বিজয়া সম্মিলনী উপলক্ষে একত্রিত হয়ে প্রাণ খুলে একটু কথা বলার সুযোগ পাওয়া।
আমি মনেকরি এটাই আমার পঁচাত্তরউর্ধ্ব জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওনা।
নমস্কার।
<-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
========================
Comments
Post a Comment