1118>|| ভূত চতুর্দশী/ নরক চতুর্দশী ||

 1118>|| ভূত চতুর্দশী/ নরক চতুর্দশী ||

      <----আদ্যনাথ--->


ভূত চতুর্দশী/ নরক চতুর্দশী

14 প্রদীপ আর 14 শাকের  কথা::---

হিন্দিতে বলে নরক চৌদ্শ।

( नरक चौदश/नरक चतुर्दशी )

ভূত চতুর্দশী বা নরক চতুর্দশী হল কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথির আগের দিন, অর্থাৎ চতুর্দশীর দিন।

নানান কারনে এই চতুর্দশীর রাত্রের মহত্ব অনেক বেশি। 

বৎসরে এক দিন এই কার্তিক মাসের কৃষ্ণ চতুর্থীর দিনে নরকের দ্বার খোলা থাকে।

(বিশেষ করে রাত্রিকাল প্ৰশস্ত কাল উম্মুক্ত থাকে নরকের সকল দ্বার)


মহালয়ার দিনে যেমন স্বর্গের দ্বার খুলে যায় এক দিনের জন্য, সকল পূর্বপুরুষেরা সেইদিন স্বর্গ থেকে মর্তে আসেন নিজের নিজের বংশের হাতে জল পাবার জন্য।অর্থাৎ উদ্ধার হবার জন্য।

ঠিক তেমনি এই কার্তিক মাসের  কৃষ্ণচতুর্থীতে খুলে যায় নরকের দ্বার।

সেই গল্পই বলছি এখন---


দানবীর বলীরাজের অনুচরদের অত্যাচারে যখন মর্তবাসী অতিষ্ঠ তখন ভগবান বিষ্ণু বামন রূপে অবতীর্ণ হয়ে বলীরাজের কাছে তিন পদ ভূমি চাইলেন। দানবীর বলীরাজ এক পদে স্বর্গ, একপদে সমগ্র মর্ত দান দিলেন এবার ভগবান বিষ্ণু তাঁর তৃতীয় পদ রাখলেন বলীরাজের মস্তকে।

আর এই ভাবে ভগবান বিষ্ণু বলীরাজ কে পাতালে প্রবেশ করিয়ে দিলেন। আর তখন থেকে বলীরাজ পাতলেই থাকেন কিন্তু বলীরাজের আগ্রহে ভগবান বিষ্ণু বলি রাজাকে  একদিনের জন্য মর্তে আসার অনুমতি দেন, সেই একটি দিন হল এই কার্তিক মাসের কৃষ্ণচতুর্থীর দিন। সেই কারণেই এই দিন নরকের দ্বার খোলা থাকে, 

আর এইদিন রাত্রে বলীরাজা তার অনুচদের সাথে মর্তে আসেন।

 মর্তবাসী এই দিনে ওই সকল ভূত প্রেত দৈত্য দানদের নিজেদের থেকে দূরে রাখতে ঘরে দুয়ারে আঙ্গনে 14 প্রদীপ জ্বলায় ও 14 শাক খায়।


আবার এক কাহানি তে নরকাসুর

16000 ষোল হাজার সুন্দরী রমণীকে হরণ করে নিজের রাজধানী প্রাগজ্যোতিষপুরে বন্ধি করে রাখেছিলেন। 

এই প্রাগজ্যোতিষপুরই বর্তমানের কামরূপ কামাখ্যার পার্বত্য অঞ্চল।

ভগবান বিষ্ণু তথা শ্রীকৃষ্ণ, নরকাসুরকে

এই কার্তিক কৃষ্ণচতুর্দশীর দিন বধ করে 14000 চোদ্দ হাজার রমণীকে উদ্ধার করেন এবং শ্রী কৃষ্ণ এই 14 হাজার রমণীকে বিবাহ করে তাঁদের স্বসম্মানের

সাথে নিয়ে এসে দ্বারকায় স্থান দেন।

সেই কারণেই ভগবান বিষ্ণুকে  সন্মান জানাতে ও 14 হাজার স্ত্রীকে সাদর সন্মান করতেই এই 14 প্রদীপ ও 14 শাকের রেওয়াজ প্রচলন।

এমন দিন তন্ত্র সাধনের বিশেষ দিন।

একটু চেষ্টাতেই ভূত প্রেতের দেখা মেলে ডাকিনি,যোগিনী আসলেও আসতে পারে সাথে, 

মুশকিল হয় যখন অসুর দানব আসে সাথে।

সেই কারণেই  কিছু করতে হয় অনেক সাবধানতার সাথে।

গুরু বিনা অগ্রসর হওয়া অনেক কঠিন বটে।

গুরুও উপযুক্ত শ্রেষ্ঠ তন্ত্র সাধক হতে হবে,

নচেৎ বৎসর ভরের সর্ব কর্মই হতে পারে বৃথা সকলই বিফলে যাবে।

আগন্তুকেরা রুষ্ট হলে সব আচার লন্ডভন্ড হবে,

ফলে সকল কিছুই অনাচারে পর্যবসিত হবে।

হয়তো কোন বিপদ, অঘটনও ঘটতে পারে।

তেনাদের কাছে অসম্ভব কিছুই নাই,

চাহিদা পূরণ করতে  করে না কোন কার্পণ্য,

আবার নিমেষে করতে পারে সর্বশান্ত,

এমনকি ভাবেনা ক্ষনিক করতে জীবনের অন্ত,

তাইতো কার্তিক কৃষ্ণ চতুর্দশী  ভয়ানক অশান্ত।

  <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

       19/10/2025::রাত্রি 2:40 am

=======================


Comments

Popular posts from this blog

1117>|| কার্তিক অমাবস্যা ||