11173>|| অশনি সঙ্কেত ||
11173>|| অশনি সঙ্কেত ||
<---আদ্যনাথ--->
ঐযে ওরা বসে বৃক্ষ টির ছায়া তলে,
প্রখর রৌদ্র তাপে একটু বিশ্রাম নিতে,
শরীরের ক্লান্তিতে একটু সতেজ হতে,
শীতল হওয়ায় শান্ত পরিবেশে ওরা ঘুমিয়ে পড়েছে।
ঘুমিয়ে পড়েছে ক্ষণকাল জিরিয়ে নিতে,
প্রকৃতির কী নিষ্ঠুর পরিহাস কে জানে,
ওরা কাঠুরে এসেছিল ওই গচটি কাটতে,
বিশাল বৃক্ষ, লোভ আছে সুন্দর মসৃণকাঠ পাবে।
প্রকৃতির কি অপূর্ব খেলা,
যাকে ধ্বংস করতে উদ্যত শরীর মন,
তারই আশ্রয়ে নিরালায় দিন যাপন,
আশ্রয় দাতাই হবে নিষ্ঠুরতার শিকার, বলিদান।
মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ তথাপি স্বভাবে কৃতঘ্ন,
মানুষ ছাড়া কেউ করেনা উপকারীর ধ্বংস,
তবুও মানুষ শ্রেষ্ঠ এই পৃথিবী তে, কেন!
প্রকৃতির নির্মমতার এ-হেন বড়াই কেন?
মানুষ তো দয়া, ধর্ম, ত্যাগের জীবন্তমূর্তি,
তবুও মানুষের এমন নিষ্ঠুর কর্ম কীর্তি।
দয়া,ধর্ম,ত্যাগের শ্রেষ্ঠ জীবন মূর্তিই মানুষ হয়,
তবুও মানুষ মনে এমন নিষ্ঠুর ক্রুর লালসা ময়!
প্রকৃতির দানে এই মানব জীবন ধন্য,
রক্ত মাংসের শরীরে লোভ ও লালসা পূর্ন,
তাই বুঝি মানুষ প্রকৃতিকেই করেচলেছে ধ্বংস,
এ-যেন সেই ভস্মাসুর ও শ্রী নারায়ণের মোহিনী রূপের গল্প।
ভস্মাসুর নিজের শক্তির অহঙ্কারে বড়প্রদান করি শিবকেই করতে উদ্যত ধ্বংস।
শ্রী নারায়ণের মোহিনী রূপের ছলনায় ভস্মাসুরের হল ধ্বংস।
আজ মানুষ নিজেই ভস্মাসুরের ন্যায় হয়েছে অন্ধ।
মানুষ নিজেই করে চলেছে প্রকৃতির উদ্ভিদ সম্পদের ধ্বংস,
যে উদ্ভিদ ছাড়া সমগ্র পৃথিবীই হয়ে যাবে ধ্বংস।
মানুষ মাত্রেই জ্ঞান বুদ্ধির অসীম ভান্ডার,
তথাপি মানুষ ভুলতে পারেনা নিজের লোভ ও অহংকার।
অতি লোভ-লালসা বড় বালাই সমাজে,
লোভ-লালসার জালে মানুষ বহুরূপী সাজে।
এভাবেই প্রকৃতি ধ্বংস হচ্ছে নীরবে,
মানুষ আজ শ্রেষ্ঠ তার বুদ্ধিমত্তার লড়াইয়ে।
মানুষ কোনদিন কি ভুলতে পারবে লোভ-লালসার মোহ?
আজ বিশ্ব উষ্ণায়নের সঙ্কটের জানান দিচ্ছে বিপদের সঙ্কেত,
প্রকৃতি করেনা কোন তর্ক সমালোচনা,
ফুলে ফেঁপে ওঠা সাগরের জল,হিমালয়ের ভূমিধস, তীব্র তাপদাহ,দাবানল দিচ্ছে সংকেত সকলের জানা।
<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
01/06/2026::রাত্রি 01:10 am
=======================
Comments
Post a Comment