11136>|| ৺দিবাকর দাস দার স্মরণ সভা ||
11136>|| ৺দিবাকর দাস দার স্মরণ সভা ||
SV2--3/2D.
<----আদ্যনাথ------>
ওঁ স্থাপকায় চ ধর্মস্য সর্বধর্মস্বরুপিণে।
অবতারবরিষ্ঠায় রামকৃষ্ণায় তে নমঃ।।
ওঁ নমঃ শ্রীভগবতে রামকৃষ্ণায় নমো নমঃ।
ওঁ নমঃ শ্রীভগবতে রামকৃষ্ণায় নমো নমঃ।
ওঁ নমঃ শ্রীভগবতে রামকৃষ্ণায় নমো নমঃ।
জাতস্য হি ধ্রুবো মৃত্যুর্ধ্রুবং জন্ম মৃতস্য চ ।
তস্মাদপরিহার্যেঽর্থে ন ত্বং শোচিতুমর্হসি ॥
গীতা ২/২৭
অর্থাৎ---,যিনি জন্মেছেন তার মৃত্যু অনিবার্য,
এবং যিনি মৃত্যুবরণ করেছেন তার জন্মও নিশ্চিত।।
তাই এই অনিবার্য বিষয়ে তোমার শোক করা উচিত নয়।
কিন্তু আজ 13 জানুয়ারি 2026 মঙ্গলবার।
আমাদের অতি প্রিয় ৺দিবাকর দাস দার স্মরণে তাঁর বিদেহী আত্মার প্রতি
শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করতে এখানে মিলিত হয়েছি।
দাসদা তাঁর কর্মনিষ্ঠ জীবনে নানান দিগ থেকে আমাদের এই শ্যামবিহার ফেজ 2 এর সকলের হৃদয় জয় করে নিয়েছিলেন,
এবং সকলের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে গিয়েছেন।
আমার ভাবনা ও চিন্তায় ৺দাসদার মতন এমন কর্ম যোগীএকনিষ্ঠ ইঞ্জিনিয়ার আজ সমাজে বড়ই দুর্লভ।
এই ধরা ঢামে মানুষ যতক্ষণ থাকে, ততক্ষণ তার মহত্ত্বের অনেক দিকই আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে, কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতিতেই তার শূন্যস্থান, তাঁর অবদান এবং তাঁর স্মৃতিগুলো আমাদের কাছে আরও বড় হয়ে ধরা দেয়,
তার অনুপস্থিতি আমাদের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ , তার আসল মহত্ত্ব বা প্রভাব আমরা গভীরভাবে অনুভব করতে পারি, কারণ তখন তাঁর কাজ, চিন্তা ভালোবাসা সবকিছুই সর্ব দিক থেকে শূন্যস্থান তৈরি করে, যা আমাদের স্মৃতি ও অনুশোচনার মাধ্যমে উপলব্ধি হয়।
এই অনুভূতি মূলত তাঁর ভালো গুণাবলির প্রভাব, এবং আমাদের জীবনে তার অবদানকে কেন্দ্র করে আসে, যা হয়তো জীবিত অবস্থায় আমরা সবসময় পুরোপুরি বুঝতে পারি না।
ঠিক তেমনি আজ আর আমরা দাসদার সেই মিষ্টি মধুর হাসি, কথা, পরামর্শ,
কর্মকান্ডের নির্দেশ গুলি আর পাবো না।
এমন ভবনা গুলি আমাকে ভাবায় ।
বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে, শরীর নশ্বর হলেও মানুষের কর্ম ও আত্মার প্রভাব থেকে যায়। এই অবিনশ্বর অংশটিই মৃত্যুর পর বেশি অনুভূত হয়।
আর সেই ভাবনার অজুহাতে দুকথা বলতে চাইছি---------
যে কথা বলতে চাইছি তা হলো------
|| বার্ধক্য কর্মপঙ্গু ||
বৃদ্ধ হওয়াকে অবাঞ্ছিত মনে হয়,
মাঝে মাঝে ভীতিকরও মনে হয়।
বার্ধক্যের উদ্বেগ আসলে অজানা,
আপন জনেরাও যেন চেনে না।
এ-হেন অচেনার ভান করাটাই ভয়ঙ্কর,
আজ যে বয়ঃ বৃদ্ধ, একদিন ছিল যৌবন।
আজ ভাবনা কিভাবে কাটবে জীবন,
পরজীবী হয়ে বেঁচে থাকা কঠিন ভীষণ।
অজানা অচেনা অস্থির এক ভাবনা,
দিবারাত্র কেবল মৃত্যুই বুঝি কামনা।
মৃত্যু, সুন্দর, শান্ত কিনা কেউ জানে না,
বোধহয় মৃত্যুতে আছে নানান যাতনা।
তবুও তারে চায় ক্ষণিক ভুলতে বেদনা,
কতকবি করেছেন মৃত্যুর সুন্দর বন্দনা।
কে বলবে, মৃত্যুই কি চীর শান্তির ঠিমান?
মৃত্যু নিশ্চিত অলীক অজানা অচেনা।
বৃদ্ধ বয়সটাই আজ এক প্রধান সমস্যা,
আজ সমাজ সংসারে বৃদ্ধরাই বোঝা।
বৃদ্ধ যে সেই তো ছিল সংসারের মাথা,
আজ নত হয়েআছে সেই বৃদ্ধের মাথা।
কে, কেন খুঁজবে বৃদ্ধের মনের ব্যথা,
সময় কোথায় অহেতুক মাথা ব্যথা।
আধুনিক সংসারে সকলে সদা ত্রস্ত,
ডিজিটাল যুগে সকলেই কর্ম ব্যস্ত,
মানুষ নিশ্চই বাঁচে তার কর্মে, বয়সে নয়,
তবুও বৃদ্ধ বয়সে শরীর অসহায় মনেহয়।
জগৎ কর্মময়,কর্মহীন জীবন বৃথা,
অসমর্থ বৃদ্ধপঙ্গুর ত্রুটি কর্মহীনতা।
কিছু মানুষ সর্বদা সুখ দেয়,
কেউ আবার অভিজ্ঞতা দেয়।
শ্রেষ্ঠ সুন্দর মানুষ সুখের স্মৃতি দেয়,
যে স্মৃতি মানুষ আজীবন বয়ে বেড়ায়।
যে আত্মা গেছেন অমৃতের পথে,
চির সত্য,অফুরন্ত অমৃতের খোঁজে।
ক্ষমা প্রার্থনা, দুঃখে দুফোটা চোখের জল,
ও সকলই ভালবাসার তাৎক্ষণিক ফল।
আসল তো হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের বিচ্ছেদ,
তার প্রকাশ কি সম্ভব শোক সভার মারফৎ!
তিনি আছেন অলক্ষ্যে আমাদের সকলের হৃদয় মাঝে,
দ্বাদশ-দল-পদ্ম অনাহত চক্র মাঝে।
মন আজ ভারাক্রান্ত দাস দাকে হারিয়ে,
স্মৃতি গুলি আজও আছে হৃদয়ে জড়িয়ে।
নমে প্রাণে সেই ভাবনার আদর করি,
দাস দার বিদেহীআত্মার শান্তি কামনাকরি।
নমস্কার।
<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী----->
13/01/2026::--সন্ধ্যা 07:30
শ্যামবিহার ফেজ2,
========================
Comments
Post a Comment