11133>|| গুরু ভজ মন ||
11133>|| গুরু ভজ মন ||
<---আদ্য নাথ--->
দেহ খন্ডে ১৪ পোয়ার মজা,
তার ভিতরে সজাগ দশটি দরজা,
সেই দরজার নয়টি খোলা,
একটির আবার চাবি খোঁজা।
গোপন একটি তালা আছে,
সেই তলার চাবি থাকে গুরুর কাছে।
বুঝলে সহজেই আনন্দে বিভোর হবে,
না বুঝলে কলুর বলদ যেন ঘনিতে ঘোরে।
আসলে সার কথাটি জানতে হবে,
ভেবে চিন্তে গুরু বেছে নিতে হবে।
গুরুর কৃপায় মনবাসনা পূর্ন হবে,
নইলে এই ব্রহ্মাণ্ডে ঘুরে ঘুরে মরতে হবে।
বিঃদ্রঃ::----
দেহ খন্ড ১৪ পোয়া::----
আমাদের দেহে আছে,৭ আকাশ( সপ্ত আকাশ) এবং ৭ জমিন (সপ্ত ভূমি) ।
এই ৭ আকাশ আর ৭ ভূমি মিলে হলো ১৪ তলা বা ১৪ পোয়া।
দেহে নালা ১০ টি। সেই ১০টি নালা হলো - দুই কান, দুই নাক, দুই চোখ ,একটি মুখ, পায়ুপথ একটি, লিঙ্গ একটি। মোটা ৯ টি,আর বাকি যে ১ টি নালা সেটি হলো জ্ঞান। যা মাথার তালুতে থাকে। সেখানে একটি গোপন তালা লাগানো থাকে। গুরুর কাছ থেকে দীক্ষা নিতে হয় সেই গোপন তালার চাবির সন্ধানের জন্য। জ্ঞান অর্জন করে সেই তালা খুলতে হয়।
'মানব শরীর ১৪ পোয়া' বলতে দেহের বিভিন্ন স্তর, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, বা আধ্যাত্মিক শক্তিকে ইঙ্গিত করা হয়,
যেমন ১৪টি ইন্দ্রিয় কেই বোঝায়
৫টি জ্ঞানেন্দ্রিয়,
৫টি কর্মেন্দ্রিয়,
৫টি প্রাণ (প্রাণ, অপান, সমান, উদান, ব্যান) এবং মন, বুদ্ধি, অহংকার, চিত্ত (সত্তা) -
এসকল জ্ঞান মানব দেহ বিজ্ঞান সাধনার প্রকাশ।
স্থূল বুদ্ধি বা বিচারে কিছুই বোঝা সম্ভব নয়,
এ সকল বুঝতেই দরকার গুরু।
গুরু দীক্ষার মাধ্যমে এই সকল সূক্ষ্ম তত্ত্বের প্রকাশ ও জ্ঞান লাভ হয়।
তাইতো বলে---
গুরু বিনে গতি নাইরে ভাবে,
গুরুই দেখাবে,যাবে কোন পথে।
গুরুই উদ্ধার কর্তা এই জগৎ মাঝে,
তাইতো মনরে গুরুভজ সকাল সাঁঝে।
==========
●★●★●★●★●★
অনেকেরই গুরু সম্বন্ধে ধারণা বিকট, বিভ্রান্তি কর, আজব অযৌক্তিক।
সেই কারণে আমি একটু ইঙ্গিত দিতে ইচ্ছা করি যে গুরু কী--এবং ধর্ম গুরুর প্রয়োজন কী!
গুরু ব্যাতিরেকে কিছুই পাওয়া সম্ভব নয়।
মানব জীবনে প্রথম গুরু সন্তানের "মা"
"মাতৃ রূপে সংস্থিতা"
তারপরে পিতা::--
"পিতা স্বর্গঃ পিতা ধর্ম্মঃ পিতাহি পরমন্তপঃ
পিতরি প্রীতিমাপন্নে প্রীয়ন্তে সর্ব্বদেবতা"।
সাথে আছেন শিক্ষা গুরু।
আর শেষ পথ দেখায় ধর্ম গুরু।
সেই কারণেই একটু লিখলাম।
এটি আমার নিজের ধারণা বা জীবনের উপলব্ধি।
<---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
20/12/2025 সকাল 08:20 am
========================
Comments
Post a Comment