11131>|| পবন খুড়োর ইতিকথা ||

    11131>|| পবন খুড়োর ইতিকথা  ||

           <----আদ্যনাথ----->

আমাদের পবন খুড়ো ভালো বসেন মাছের মুড়ো,

আশি পারহলেও ওনাকে বলোনা বুড়ো,

বুড়ো বললেই চড়বে ওনার মাথার ব্যামো,

তার পরে এক ভয়ংকর ব্যাপার জেনো।


পবন খুড়ো যদি গান গায় মনের আনন্দে,

সেই গান যদি  চলে সকাল থেকে সন্ধ্যে।

ফোকলা দাঁতে গানতো নয়, হওয়ার বেগ প্রচন্ড হয়,

সেই বেগ টাইফুন,টরনেডো কে হার মানায়।


সেদিন সন্ধ্যায় গাইছিলো গান ছন্দ জুড়ে,

পাশের বাড়ির বিয়ের প্যান্ডেল খানাই গেল উড়ে।

সবাই বলে থামো থামো ওগো খুড়ো,

না হলে পালাবে গ্রামের সব গরু বাছুর গুলো।


শেষে খেত বাড়ি সহ হলে উজাড়,

কোনমন্ত্রে কি ভাবে তার হবে উদ্ধার।

পবন খুড়োর নামাডাক আছে ভারী,

একসময় ছিলেন গানের ওস্তাদ ভারী।


গান গেয়ে দুইচারখানা পেয়েছে মেডেল,

তাঁর  দরজায় আঁটা আছে সেই লেবেল।

নিজের খরচে বানিয়ে পেন্ডেল নিজেই গাইতো গান,

(গানের গুঁতোয় )

গ্রামের মানুষের হতো রাত্রি জাগোয়ান।


এমন গায়ক দেখেনি কেউ ভূভারতে,

মান্যি গন্যি ছিযেন নাকি গানের জগতে।

ঢিলের চোটে দাঁত ভেঙেছে খয়রা পুরের জলসাতে,

তার পর থেকেই কেউ পারেনা  তাকে সামলাতে।


অনেক গুনে গুণী ছিলেন পবন খুড়ো,

গান গাইতো খেয়াল,ঠুংড়ি, ভাটিয়ালি পুরো।

শখ ছিল যাত্রাপালায় রাবন সাজার,

সীতার পাঠ নাকি করেছিলেন সেবার।


সেই পালোয়ান সীতাকে দেখে রাক্ষসরা ভয়ে মরে,

রাবন এ কেমন সীতাকে আনলো ধরে।

শেষে যাত্রা হল পন্ড সীতা আর হনুমানের উৎপাতে,

শেষে দর্শকরাও পালিয়ে বাঁচে সেই যাত্রা পালাতে।


পবন খুড়োর আর কত গুণের করবো বর্ণন,

যতই লিখি, যতই বলি পাবেনা তার দর্শন,

হঠাৎ সেদিন কোন কারনে খুড়ো করেন পদার্পন,

সেদিন ভূত চিতুর্দশী রাত্রে এক কান্ড হয়ে ছিল ভীষণ।


মাঝরাতে পবন খুড়ো গান গাইবে করলেন পন,

ভয়ে দুয়ারে দিলেন খিল গ্রামের সব মানুষ জন। 

শেষে পবন খুড়ো গাইলেন গান দূরের জঙ্গলে গিয়ে,

পরের দিন খবর হল সব পশু পাখি জঙ্গল ছেড়ে গেছে পালিয়ে।

  <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী----->

      17/12/2025::-সকাল 8:20 am

 =======================

Comments

Popular posts from this blog

1118>|| ভূত চতুর্দশী/ নরক চতুর্দশী ||

1117>|| কার্তিক অমাবস্যা ||